Tags

, ,

railline

রেলযাত্রা সবসময়ই খুব ‘বোরিং’। তাই দূরপাল্লার ট্রেনে যাওয়ার সময় সঙ্গে থাকে অজস্র খাবার, গল্পের বই। জানালর ধারে বসে থাকলেও সময় কাটেনা। সাধারণত মাঠের মাঝ দিয়েই হয় রেললাইন। তাই দৃশ্যে বৈচিত্র্য থাকে না খুব বেশি। তবে ভারতে এমন কয়েকটি রেললাইন রয়েছে, যার উপর দিয়ে গেলে সময় কোথা দিয়ে কেটে যায় তা বোঝাই যায় না।

১. জম্মু-উধমপুর রেলপথ:d4_1374960g

কাশ্মীর রেলওয়ে ভারতের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রজেক্ট। একদিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, অন্যদিকে বরফে মোড়া পাহাড়। তাছাড়া এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি রেলযাত্রীদের রোমাঞ্চ জাগায়। এই রুটে রয়েছে ২০ টি টানেল ও ১৫৮ টি ব্রিজ। ব্রিজের উপর থেকে দেখা যায় অসাধারণ সুন্দর নদী আর উপত্যকার ছবি।

২. কাংড়া উপত্যকা রেলপথ:dsc_8230-copy

কাংড়া উপত্যকা রেলওয়েটি উপ হিমালয় এলাকা দিয়ে গিয়েছে। পঞ্জাবের পাঠানকোট থেকে শুরু হয়ে হিমাচল প্রদেশ অবধি গিয়েছে রেললাইনটি। ১৬৪ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে এটি। একাধিক উপত্যকা, নদীর উপর দিয়ে পথ। ১০ ঘণ্টা কোথা দিয়ে চলে যাবে বোঝাই যাবে না।

৩. গোয়া রেলপথ (ভাস্কো-ডা-গামা থেকে লোন্দা জংশন)goa

গোয়া বলতেই আমরা বুঝি শুধু সুন্দর সব সমুদ্র সৈকত। কিন্তু, আরও একটা দিক রয়েছে যেটা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যায় না। এই রেলপথে দেখা যায় ঘন জঙ্গল, সবুজে ঘেরা গ্রাম আর ঝর্ণা। পশ্চিমঘাট পর্বতের বাঁক দিয়ে গিয়েছে এই রেলপথ। এই পথেই পড়ে দুধসাগর ওয়াটারফলস, এটি ভারতের অন্যতম উঁচু ঝর্ণা।

৪. হিমালয়ান কুইন(কালকা-সিমলা):toy-train-kalka-to-shimla

একমাত্র রেলপথ যেটা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। ক্রমশ উঁচুর দিকে উঠে গিয়েছে এই রেলপথ। ১৯০৩ সালে তৈরি হওয়া এই রেললাইন একি হেরিটেজ। এই লাইনে রয়েছে ১০২ টি টানেল, ৮৬৪ টি ব্রিজ।

৫. দার্জিলিং টয় ট্রেনTrain-toy-final-2-720

পাহাড়ের কোলে তৈরি হওয়া সবথেকে পুরনো রেলপথ। এটি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মধ্যে একটি। পথে রয়েছে অনেকগুলি লুপ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। রেলপথের পাশে রয়েছে চা বাগান, চেরি গাছ, ম্যাপল গাছ ইত্যাদি।

৬. জয়পুর-জয়সলমীর:The-Desert-Queen-Jaipur-Jaisalmer

এই রেলপথে যাওয়ার সময় পাওয়া যাবে মরুভূমির এসেন্স। রাজধানী শহর জয়পুর থেকে ট্রেন ছুটে যায় মরু শহরের দিকে। পরপর থর মরুভূমির বালিয়াড়ি চোখে পড়বে। মাঝে থাকবে রঙিন সব ঘর। উটের চলাচল, সব মিলিয়ে ছবির মত দৃশ্য। আর যদি সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত ভাগ্যে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।

৭. মন্ডপম-রামেশ্বরম21THTRAIN_1336502f

নীল সমুদ্রের উপর দিয়ে সেতু। আর সেই সেতুই রেলপথ। তামিলনাড়ুর মন্ডপম থেকে পামবন দ্বীপ পর্যন্ত যে সেতুটি তৈরি হয়েছে সেটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। আপনি যদি রামেশ্বরমের তীর্থযাত্রী নাও হন, তাহলেও আপনি এই রেলপথের প্রেমে পড়তে বাধ্য।

৮. এনারকুলাম-ত্রিবান্দমKonkan-Rail-Line

কেরলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এর থেকে ভালো রেলপথ আর হতে পারে না। ট্রেনের টিকিট কাটুন আর একযাত্রায় দেখে নিন কেরলের পুরো প্যাকেজ। ব্যাকওয়াটার, প্রিস্টিন লেক, নারকেল গাছের সারি, সবুজে ঘেরা গ্রাম সবই দেখতে পাবেন আপনি। কেরলের ব্যাকওয়াটারে যেভাবে ছোট ছোট দ্বীপ বানিয়ে মানুষজন বসবাস করছেন, সেই দৃশ্য সত্যিই উপভোগ।

৯. নীলগিরি রেলওয়েNMR_Train_on_viaduct_05-02-26_33

নীল পাহাড়ের ভিতর দিয়ে যখন ট্রেন নিয়ে যাবে আপনাকে, তখন একটু হলেও বুক কেঁপে উঠবে আপনার। ১১০ বছর ধরে ট্রেন চলছে এই পথে। স্টিম ইঞ্জিন আপনাকে ৪৬ কিলোমিটার নিয়ে যাবে সাড়ে চার ঘণ্টায়। উটির পাহাড়ের বাঁক দিয়ে ট্রেন যখন ঘুরবে, তা আলাদা অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি দেবে। চোখে পড়বে চা বাগানের গালিচাও।

১০. ভাইজাগ-আরাকুভ্যালিVisiting-Araku-Valley-by-train-from-Visakhapatnam

আরাকুভ্যালি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। কফি গাছ, ঘন জঙ্গল এখানকার বৈশিষ্ট্য। আর এই আরাকুর সঙ্গে রেল সংযোগ রয়েছে ভাইজাগের। আর সেই রেলপথে চোখে পড়বে বেশ কয়েকটি গুহা ও ঝর্ণা।

Advertisements